গল্পের নাম : বউ

লেখক : অন্না

পর্ব : ৭+৮






#বউ (পর্ব ০৭) 

#অন্না 

.

.

.

নিশান তিশাকে জোর করে খাইয়ে দিতে গেলে তিশা খাবারের প্লেট টা ছুরে ফেলে দেয়,,,,আর নিশান তিশাকে চড় মারতে গেলে শুভ এসে নিশান এর হাত টা ধরে ফেলে,,,,

,

তিশা::::: আপনি,,,,,,

,

শুভ তিশাকে নিশানের কাছ থেকে টেনে অন্য চেয়ারে বসিয়ে দেয়,,,,,,

,

নিশান::::: sir,,,,,

,

শুভ::::: ইভটিজিং কত বড় অপরাধ তুমি জানো?,,,

,

নিশান:::: don't worry sir,,,,,,, আমি ওর কাজিন,,,,

,

শুভ:::: ওহ্ তো যেভাবে জোর করছিলে মনে তো হচ্ছিলো না যে ও তোমার বোন,,,,,মনে তো হচ্ছিলো,,,,,

,

নিশান:::: gf তাই না স্যার,,,,, এই মেয়েটা তো বোঝেই না আমি ওরে কতোটা ভালোবাসি,,,

,

তিশা::::: mind your language,,,,আপনি কি ভেবেছেন,,, আপনার যা ইচ্ছা তাই বলবেন আর আমি শুনে যাবো,,,,

,

নিশান:::::behave your self tisa,,,,,,স্যার উনি আমার,,,,,

,

তিশা:::: তো? উনি আমার কে জানেন?

,

নিশান::::: কে?

,

তিশা শুভর দিকে তাকিয়ে চুপ মেরে গেলো,,,,,

,

নিশান:::: কি হলো বলো কে উনি তোমার?

,

তিশা::::: আ,,,,,আমার ও স্যার,,,,,,

,

তিশা চুপ করে চলে আসতে গেলো,,, 

,

নিশান:::: খেয়ে যা তিশা নয়তো তোর শরীর আরও খারাপ করবে,,,,

,

তিশা::::: সেটা আপনার ভাবতে হবে না,,,আমাকে নিয়ে ভাবার জন্য আমার পরিবার, আমার হাসবেন্ড আছে,,,,,

,

নিশান:::: হাসবেন্ড my foot,, তুই শুধু আমার, মনে রাখিস,,,,,তোর ভাই এর জন্য তোকে আমি একবার পাইনি,,, কিন্তুু তোকে আমার করেই ছারবো,,,, ,,,

,

নিশান চলে গেলো,,,, শুভ চুপচাপ দাড়িয়ে আছে,,,,কি বলবে ও বলার ভাষা পাচ্ছে না,,,,যতই হোক তিশা ওর বিয়ে করা বউ,,, নিজের সামনে দাড়িয়ে কেউ ওর বউকে থ্রেট দিয়ে চলে গেলো ও কিছু বলতে পারলো না,,,,না চাইতেও শুভর প্রচন্ড পরিমান রাগ হচ্ছে,,,কিন্তুু সেই রাগটা তিশাকে দেখালো না,,,,,,,, তিশার হাত ধরে চেয়ারে বসিয়ে দেয়,,,,তারপর নিজে গিয়ে খাবার এনে তিশাকে খেতে বলে,,,,,

,

তিশা::::: খুদা নাই খাবো না,,,,,,,,,

,

শুভ::::: কেনো? পর পুরুষের কোলে উঠতে খুব ভালো লাগে তাই না?

,

তিশা শুভর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে,,,,,,,

,

শুভ:::: চুপচাপ খেয়ে নিন,,,,,,,,,

,

তিশা::::: (একগাল হেসে) তুমি খাইয়ে দাও না জানু,,,,,,,

,

শুভ::::: এখানে? কেউ দেখবে তো,,,,,

,

তিশা:::: এখানে তো আমার সতীন টা নেই,,, ভয় পাচ্ছো কেনো,,,,,

,

শুভ বুঝতে পারলো না তিশার এই কথাটা শুনে শুভর বুকে হালকা ব্যাথা অনুভব হয়,,,,,,

,

শুভ দুবার তিশার মুখে তুলে খাইয়ে দেয়,,,,

,

শুভ:::: এখন নিজে নিজে খেয়ে নিন,

,

তিশা::::: i love you,,,, 

,

শুভ::::: what!

,

তিশা::::: i just love with you,,,,,,

,

শুভ::::: আপনি জানেন আমার জি এফ আছে,,,,আমি শুধু তাকেই ভালোবাসি,,,,,,

,

তিশা::::: আমি শুধু তোমাকে ভালোবাসি,,,,,

,

শুভ:::::: আমি তোমাকে ভালো বাসতে পারবো না,,,,,

,

তিশা:::: ঠিক আছে,,,,আমি মরে গেলে আমার কবরে ভালোবেসে এক মুঠো মাটি দিয়ে দিও,,,সেটা আমার ভালোবাসার শ্রেষ্ঠ পাওনা হবে,,,,,,,

,

কথাটা বলে তিশা উঠে চলে আসলো,,,,,

,

শুভ:::::এই মেয়েটা এমন কেনো? এসব কথা কেউ বলে,,,,ইচ্ছা করছে ঠাটিয়ে একটা থাপ্পর মেরে দেই,,,,, 

,

কলেজে আর সারাদিন তিশা আর শুভর দেখা হয়নি,,,,, আসলে তিশা ইচ্ছা করেই শুভর সামনে যায় নি,, সে তো চেয়েছিলো শুভকে নিয়ে ভালোভাবে বাচতে,শুভকে ভালোবাসা দিয়ে ভরিয়ে দিতে,,,কিন্তুু বদ শুভ তো তিশাকে দেখতেই পারে না,,,,কিন্তুু তিশা তো এতো সহজে হার মানবে না,,,,হয় ইহোকাল নয়তো পরোকাল,,,,,,,,,

,

বাসায় এসে শুভ দেখে যে ওর মা বেলকুনিতে পায়চারি করছে,,,,, শুভ কে দেখে ওর মা দৌড়ে আসে ওর সামনে,,,

,

শুভর মা':::: কি রে বউমা কই?

,

শুভ:::: কেনো ও আসে নি?

,

শুভর মা:::: কেনো তোকে না বলেছিলাম ওকে সাথে নিয়ে আসতে,,,,

,

শুভ:::: ইয়ে মানে,,,,

,

শুভর মা:::: বাহির হ বাড়ি থেকে,,,,,নয়তো তোর বাবা কে বলে রামপিটুনি খাওয়াবো তোকে,,,,তারাতারি বউমাকে নিয়ে আয়,,,,,

,

শুভ তারাতারি বের হয়ে যায়,,, বের হয়ে বাইক নিয়ে বেরিয়ে পরে,,,,,কলেজ এর দিকে যেতেই দেখে তিশা রাস্তা দিয়ে দৌড়ে এদিকেই আসছে,,,মাটি দিয়ে পুরো জামা মেখে আছে,,,,,

,

শুভ তারাতারি বাইক থামিয়ে তিশার সামনে দাড়াতেই তিশা দুহাতে আস্টে পিস্টে শুভকে জরীয়ে ধরে কান্না করতে থাতে,,,,,

,

শুভ::::: কি হয়েছে? এ অবস্থা হলো কি করে আপনার,,,,আর কাদছেন কেনো,,

,

তিশা::::: কু,,,,,,কু,,,,,,,র,,,,,এ্যা,,,,,,,এ্যা,,,,,,,,,,,

,

শুভ::::: আচ্ছা আচ্ছা,,,,relax,, relax,,,,,,

,

শুভ তিশাকে নিয়ে এসে একটা দোকানে বসিয়ে পানি খাইয়ে দেয়,,,,,

,

শুভ::::: মুখে পানি ছিটিয়ে নিন,,,,,,,,,,

,

তিশা মুখ ধুয়ে নেয়,,,,,,

,

শুভ:::::: একা আসতে গেলে কেনো? রিক্সা নাো নি কেনো?

,

তিশা:::'' টাকা ছিলো না তো,,,,,

,

শুভ:::: ( ইসসসসস, আমি নিজেই তো টাকা দেই নি তখন,,,আমার জন্যই মেয়েটা এতো কষ্ট পেলো,,,,,) sorry,,,,,

,

তিশা:::: হুহ্ বাসায় চলেন কান ধরিয়ে দাড় করিয়ে রাখবো,,,,তা না করলে আব্বুকে বলে দিবো,,,,,,( কেদে কেদে)

,

শুভ::::: আচ্ছা ঠিক আছে,,,,,, এখন চলেন বাসায়,,,,

,

শুভ তিশাকে নিয়ে সোজা বাসায় চলে আছে,,,,তিশাকে দেখে তো ওর শাশুড়ি হাজার রকম প্রশ্ন শুরু করে,,,,

,

তিশা::::: আসলে,,,,,কলেজে একপাশে কাদা ছিলো,,,আমি না দেখে পা দিয়ে দিয়েছিলামম আর পা পিছলে পরে গেছি,,,,,,,

,

এটা শুনে তো ওর শাশুরি আরও অস্থির হয়ে যায়,,,,

,

শুভর মা:::: আহারে,,,,কোথাও লাগেনি তো,,,,দেখি তো,,, বল আমায়,,,,,,

,

তিশা::::: না আম্মু লাগেনি,,,আমি ফ্রেস হয়ে আসি,,,,,

,

তিশা রুমে চলে গেলো,,,,,,,

,

শুভর মা::::: শুভ,,,,,

,

শুভ::::: আমি কিন্তুু কিছু করিনি,,,,আমাকে বকবা না,,,,,,,,

,

শুভ রুমে এসে দেখে তিশা বিছানায় বসে আছে,,,,,

,

শুভ ওয়াসরুমে যেতে নিলে তিশা পিছে থেকে ডেকে ওঠে,,,,

,

তিশা::::: কই যাচ্ছো?

,

শুভ::::ফ্রেস হতে,,,,

,

তিশা:::: না,,,আমি আগে যাবো,,,,কতক্ষন তুমি কান ধরে দাড়িয়ে থাকো,,,,,

,

শুভ::::: what!

,

তিশা::::: তারাতারি,,,,,, নাহলে আব্বুকে ডাক দিবো,,,,,,

,

শুভ:;:::: প্লিজ,,,,,,

,

তিশা:::::: তোমার বউ তো আমি,,,লজ্জা করছো কেনো গো?

,

শুভ::::: তোমার লজ্জা বলতে কিছু নাই তাই না?

,

তিশা::::::একদম নাহ্ ,,, বর এর সামনে লজ্জা কিসের,,,,,

,

শুভ::::: না ধরলে হয় না?

,

তিশা::::: না, হয় না,,,,তারাতারি,,,,,কলেজে কি যেনো বলেছিলেন,,,,ওওওও হ্যা মনে পরেছে,,,, কলেজে থাকতে হলে কলেজের ডিসিপ্লিন মেনে চলতে হবে আমাকে,,তো এখন এ রুমে থাকতে হলে আমার ডিসিপ্লিন মেনে চলতে হবে,,,,ক্লিয়ার?

,

শুভ:::: এখানে কলেজ এর টপিক আসলো কি করে?

,

তিশা::::: ওখান থেকেই,,,,,আমাকে আজ বকা দিয়েছেন সবার সামনে,,, তাও দু,দুবার,,,,,, মনে আছে?,,,,

,

শুভ:::::ওটা তো,,,,

,

তিশা:::: জানি,,,,,

,

শুভ:''' কি যানেন?

,

তিশা:::: হিংসে করে,,,,

,

শুভ:::::what! impossible,,,,,

,

তিশা::::: এতো কথা তো শুনতে চাচ্ছি না,,,কান ধরবেন কি না?

,


শুভ আর কিছু না পেরে কান ধরে দাড়িয়ে পরে,,,,,,,তিশা হাসতে হাসতে ওয়াসরুমে ঢুকে পরে,,,,,

,

শুভ::::: আল্লারে এই ছিলো কপালে,,,,শেষ মেশ কান ধরে দাড়িয়ে থাকতে হচ্ছে,,,তাও বউ এর কথায়,,,,, আল্লাহ্ জানে আমার কপালে আর কি কি আছে,,,এই মেয়েটা যে আমার বি অবস্থা করে দিবে কে যানে,,,,,ইরা,,,,,, কই তুমি জান,,,,,,

,

তিশা::::: কি ভাবছেন এতো মনে মনে?

,

,শুভ আবার তিশাকে দেখে ক্রাশ খায়,,,,তিশা শাড়ি পেচিয়ে ওয়াসরুম থেকে বের হয়,, আর চুল বেয়ে পানি টপটপ করে পরছে,,,,,,শুভ হা করে তিশার দিকে তাকিয়ে আছে,,,,,,


,

শুভ:::::: কিছুনা,,,এবার কান ছারতে পারি?

,

তিশা::::: হ্যা,,,,,

,

শুভ ওয়াস রুমে যেতে নিলে তিশা আবার ডাক দেয়,,,,

,

শুভ::::: আবার কি হলো?

,

তিশা::::: শাড়ি টা পরিয়ে দাও না জানু,,,,,,,

,

শুভ::::: পারি না আমি,,,,

,

তিশা:::: প্লিজ,,,আমি পরতে পারছি না,,,,,,,

,

শুভ:::: আল্লাহ্,,,,,যেটা পারোনা,,,সেটা করতে বলছে কে তোমাকে?

,

তিশা:::': থাক লাগবে না পড়া শাড়ি,,,,

,

তিশা মন খারাপ করে ওয়াসরুমে যেতে নিলো,,,,

,

শুভ:::: থাক যেতে হবে না,,,,আসেন পরিয়ে দিচ্ছি,,,,

,

তিশা খুসিতে শাড়ি ধরে দৌড়ে এসে শুভর গালে কিস করে দেয়,,,,,,,

,

শুভ গালে হাত দিয়ে দাড়িয়ে থাকে...............


#বউ (পর্ব ০৮) 

#অন্না 

.

.

.

তিশা::::: শাড়ি টা পরিয়ে দাও না জানু,,,,,,,

,

শুভ::::: পারি না আমি,,,,

,

তিশা:::: প্লিজ,,,আমি পরতে পারছি না,,,,,,,

,

শুভ:::: আল্লাহ্,,,,,যেটা পারোনা,,,সেটা করতে বলছে কে তোমাকে?

,

তিশা:::': থাক লাগবে না পড়া শাড়ি,,,,

,

তিশা মন খারাপ করে ওয়াসরুমে যেতে নিলো,,,,

,

শুভ:::: থাক যেতে হবে না,,,,আসেন পরিয়ে দিচ্ছি,,,,

,

তিশা খুসিতে শাড়ি ধরে দৌড়ে এসে শুভর গালে কিস করে দেয়,,,,,,,

,

শুভ গালে হাত দিয়ে দাড়িয়ে থাকে,,,,,

,

তিশা;:::: কি হলো? ছেলে মানুষের এতো লজ্জা পেলে কি করে হবে হ্যা?

,

শুভ গালে থেকে হাত নামিয়ে,,,,,

,


শুভ:::: কিসের লজ্জা হ্যা? আমি লজ্জা পেতে যাবো কেনো?

,

তিশা:::: হ্যা তা তো আমি চোখেই দেখতে পাচ্ছি,,,লজ্জারাঙা বর আমার,,,,,,

,

শুভ::::: এই দেখেন আপনি কিন্তুু বেশি বেশি করছেন,,,,,

,

তিশা::::: কি বেশি বেশি করলাম?

,

শুভ::::: আপনার সব কাজই বেশি বেশি,,,,ভুলে যাবেন না আপনি শুধু এ বাড়ির অতিথি মাত্র,,,, আমার ইরা চলে এলেই আপনাকে এ বাড়ি থেকে,,,, 

,

তিশা ঝট করে শুভকে টেনে বিছানায় ফেলে শুভর বুকের ওপর ভর দিয়ে শুয়ে শুভর চোখের দিকে তাকিয়ে দুহাতে শুভর কলার চেপে ধরে,,,,,

,

তিশা::::: তোমার ইরা মানে কি? তোমার ইরা মানে টা কি শুভ,,,,( চিল্লিয়ে) তুমি জানোনা আমি তোমার বউ?

,

শুভ::::: আপনি আপনার লিমিট ক্রস করছেন,,,,,

,

তিশা::::: তুমি ভুলে যেওনা তুমি এখন বিবাহিত পুরুষ,,,,,, তোমার সাথে আমার জীবনটা জরীয়ে আছে,,,তুমি মানো আর না মানো আমি তোমার বউ,,,,,,

,

শুভ::::: আমি মানি না,,,,,

,

তিশা::::' মানতে তুমি বাধ্য,,,, আমার জীবনটা ফেলনা নয়,,,, তুমি চাইলেই আমাকে এ বাড়ি থেকে বের করে দিতে পারবে না,,,,,

,

শুভ::::: তোমাকে যেতে হবেই,,,আমার ওপর অধিকার শুধু,,,

,

তিশা:::'' আমার,,,,তোমার ওপর অধিকার শুধু আমার,,,

,

শুভ::::: জোর জবরদস্তি?

,

তিশা::::' দরকার হলে সেটাই করবো,,,, তোমাকে আমার করেই ছারবো,,,,,

,

শুভ::::: ইরা ফিরে এলে আপনাকে যেতেই হবে,,,,

,

তিশা::'::: আসতে বলো তুমি তোমার ইরাকে,,,,, ( শুভকে আরো কাছে টেনে) আমি বেচে থাকতে তোমাকে ছেরে এ বাড়ি ছেরে জাবোনা শুভ,,,,একমাত্র আমার লাশ এ বাড়ি থেকে বের হবে,,,,, তোমার ক্ষমতা থাকলে আমাকে এ বাড়ি থেকে বের করে দেখাও,,,,,,,

,

কথাটা বলেই তিশা শুভর ঠোটে গভীর করে একটা লিপ কিস দিয়ে শুভকে ছেরে শাড়ি ধরে ওয়াসরুমে চলে যায়,,,,,, শুভ তো shok,,,,,তিশা এমন করবে শুভ আজকেও ভাবতে পারে নি,,,,, তিশার কথা শুনে ও অন্য জগতে চলে গেছে,,,,একটা মেয়ে যে এমন ও হতে পারে শুভ ভাবতেই পারেনি,,,,, কেনো জানিনা তিশার প্রতিটা কথা শুভর হৃদয়ে আঘাত করেছে,,,,,,, 

,

তিশা:::: কি হলো এখন ও শুয়ে থেকে ওই ডানাকাটা পেত্নীর কথা ভাবছেন?

,

শুভ::::: ডানাকাটা পেত্নী কে?

,

তিশা::::: কে আবার আমার সতীন,,,,,,,তারাতারি ফ্রেস হয়ে আসেন একসাথে খাবো,,,,,,,

,

শুভ'::::: আমি খাইয়ে দিতে পারবো না,,,,,,

,

তিশা::::: আল্লাহ্ আমার হাত দিয়েছে দুইটা,,,,,আমি নিজে খাইতে পারি,এত্ত ভয় আমাকে নিয়ে আল্লাহ্,,,এখন যদি ওই পেত্নী টা বলতো তাহলে চারপায়ে লাফাতে লাফাতে যাইতেন,,,,,তাই না?

,

শুভ:::::: কিসের মধ্যে কি হ্যা? 

,

তিশা:::::আপনার মোটা মাথায় যাবে না,,,,তারাতারি আসেন,,,, আবার পেত্নীটার ভাবনায় পরেন না,,,,,,

,

তিশা বের হয়ে গেলো,,,,,,,

,

শুভ::::::( এ কোন জ্বালায় পরেছি আমি,বাট মেয়েটাকে যতই দেখছি ততই অবাক হচ্ছি,,,এমন ও মেয়ে আছে)

,

তিশা::::: আম্মু,,,,কি করছো?

,

শুভর মা::::: এই তো রান্না প্রায় শেষ,, সব রেডি করছি,,,,তুই যা খেতে বস,,,,,

,

তিশা:::: আমি একটু হেল্প করি?

,

শুভর মা::::: একদম না,,,তুই যা গিয়ে খেতে বস,,,,,,

,

তিশা;:::: প্লিজ প্লিজ প্লিজ,,,,,,

,

শুভর মা::::: ঠিক আছে এই খাবার গুলো টেবিলে নিয়ে যা,,,,

,

তিশা খাবার নিতে তরকারির গরম বাটি হাত দিয়ে ধরতেই হাতে ছ্যাকা লাগে,,,সাথে সাথেই তিশা তরকারির বাটিটা ফেলে দিয়ে ব্যথায় চিৎকার করে ওঠে,,,,,,

,

শুভর মা':::: কি হলো, কি হলো হাতে,,,,,,দেখি,,,,,,,,আল্লাহ্ একদম লাল হয়ে গেছে,,,,,,কতবার বারন করলাম,,,, কে শুনে কার কথা,,,,

,

আশা;::: কি হয়েছে আম্মু,,,,,,ভাবির হাতে কি হয়েছে?

,

তিশা:::::: আমার জন্য তরকারির বাটিটা পরে গেলো,,,,আমার জন্য,,,,,,

,

তিশা কান্না করতে লাগলো,, এর মধ্যে শুভ এসে দাড়ায়,,,,

,

শুভর মা::::: আজব মেয়ে তো তুই,,,,হাতের এমন অবস্থা আর তুই তরকারির কথা ভাবছিস?

,

শুভ::::: কি হলো?

,

শুভর মা::::: হাত পুড়ে গেছে,,,,,,

,

শুভ:::::: সেটাই তো হবে,,,,,,,কাজ করতে পারেন না তো কাজ করতে আসেন কেনো? 

,

সাথে সাথেই শুভর বাবা শুভর কান মুচরিয়ে ধরে,,,,

,

শুভর বাবা ::: ছাগল,আহাম্মক,,,,বাদর কোথাকার,,,,তোর এত বড় সাহস আমার বউমাকে আবার এসব কথা বলছিস,,,,,

,

শুভ:::::আহ্ আব্বু লাগছে তো,,,,,

,

শুভর বাবা:::: লাগার জন্যই তো দিচ্ছি,,,তোর এত সাহস আসে কোথা থেকে?

,

শুভ::::: আমি তো ভালো কথাই বলছিলাম,,, কাজ করতে না পারলে করতে এসে সব নষ্ট করে কেনো?

,

শুভর বাবা:::'তুমি কি কাজ করো হে?

,

শুভ:::::: আমি কাজ করে খাই,,,,কারো মতো বসে খাই না,,,,,

,

শুভর বাবা::'কিইইই টাকার গরম দেখানো হচ্ছে আমায়?আমি কি কাজ করিনা?

,

শুভ::::: আব্বু তুমি ভুল বুঝছো,,,আমি তো তোমাকে কিছু বলিনি,,,,আমি তো

,

শুভর বাবা::''' আমার বউমাকে বলা মানেই আমাকে বলা,,,,,,শুভর মা,,, বউমার হাতে তারাতারি ওয়েন্টমেন্ট লাগিয়ে দাও,,,,

,

শুভ:::::আব্বু তুমি কিন্তুু,,,,

,

শুভর বাবা::::: আমি কি?

,

শুভ:::: কিছুনা,,,,,,ধ্যাত,,,

,

শুভ চলে যেতে নিলো,,,,

,

শুভর মা::::: কোথায় যাচ্ছিস? খেয়ে নিবি আয়,,,,,

,

শুভ::::: খাবোনা,,,,

,

শুভর বাবা:::: কি বললি?

,

শুভ:::::যাচ্ছি,,,,,,

,

শুভ গিয়ে খেতে বসে,,,,, সবাই গিয়ে বসে,,,কিন্তুু তিশা খাবে কি করে,,,ওর খাবার হাত টাই পুড়েছে,,,,,তিশা চুপচাপ বসে শুভর দিকে তাকিয়ে আছে,,,শুভ চুপচাপ খেয়েই যাচ্ছে,,,,,

,

তিশা::::এই যে শুনছেন?( ফিসফিসিয়ে) 

,

শুভ::::: কি হলো?

,

তিশা;::::: আমি খাবো....

,

শুভ:::''' খাবার সামনে আছে খেয়ে নিন,,,,,

,

তিশা:::::আশ্চর্য,,,এমন কেনো তুমি?

,

শুভ:::: আপনি জানেন ই আমি এমন তো বলছেন কেনো?

,

তিশা::::: আচ্ছা ঠিক আছে,,,,,আশা,,,,,

,

আশা:::: হ্যা ভাবি,,,,

,

তিশা কিছু বলার আগেই শুভ তিশার মুখে খাবার গুজে দেয়,,,,,শুভর ইচ্ছা না থাকা সত্তেও তিশাকে খাইয়ে দিচ্ছে আর নিজে খাচ্ছে,,,,আর তিশা ইচ্ছা করে শুভর আঙুলে হালকা করে বার বার কামড় দিচ্ছে,,,,শুভ রাগি চোখে তাকালেও তিশার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই,, 

,

সবাই খাওয়া শেষ এ চলে গেলো,,,, আর তিশাকে শুভ খাইয়ে দিচ্ছে,,,,

,

শুভ::::: এই যে,,,,আরও কত খাবেন আপনি?

,

তিশা:::::এইটুকু খাচ্ছি,,,আর তুমি আমার খাবার দিকে নজর দিচ্ছো? এটা কিন্তুু ঠিক না জান,,,,জানো আমি কারো হাত থেকে খেয়ে শান্তি পাই না,,,কিন্তুু তোমার হাত থেকে খেয়ে আমি খুব শান্তি পাই,,,,

,

শুভ::::: আপনার শান্তিি আর আমাে অশান্তি,,,,

,

শুভ:::'' আচ্ছা যাও,,,আর খাবো না,,,,,

,

শুভ হাত ধুতে নিলেই তিশা চিৎকার করে উঠে,,,,

,

শুভ;:::: কি হলো?

,


তিশা;::::"জান তোমার হাত টা এদিকে আনো তো,,,,,,,,,

.

শুভ:::: কেনো?

,

তিশা::::: আরে জান আনো তো,,,,

,

বলেই শুভর হাত টেনে নিয়ে শুভর আঙুল টেনে চেটে শুভর হাতে লেগে থাকা খাবার খেতে শুরু করে,,,,

,

শুভ::::: হচ্ছে কি? কি করছেন এটা?

,

তিশা:::: আরে জানু তোমার হাতে কি আছে গো,,,এতো মজা কেনো তোমার হাত এর খাবার,,,ইচ্ছে করে তোমার হাত টাই খেয়ে ফেলি ,,

,

শুভ::::: দেরি করছেন কেনো খেয়ে নিন,,,,আসলে আমাকেই খেয়ে নিন,,,,এতো প্যারা ভালো লাগে না,,,,

,

তিশা::::: না গো আমি কি তোমার ওই ডানাকাটা পেত্নী যে তোমাকে খেয়ে নিবো,,,,,তুমি তো আমার জান,, সারাজীবন তোমাকে আমার এই বুকে আগলে রাখবো,,,,,

,

,

শুভ:::: অনেক হয়েছে,,,,,,ছারুন এবার,,,,,

,

শুভ হাত টা টেনে নিয়ে ধুয়ে নেয়,,,,

,

তিশা::::: একটা কথা বলি রাখবে?

,

প্রতিদিন একবার হলেও আমাকে নিজ খাইয়ে দিবে?তোমার হাতে খেতে আমার খুব ভালো লাগে,,,,,

,

শুভ:::: না আপনার কোনো কথা আমি রাখতে পারবো না,,,,

,

তিশা:::: সমস্যা নাই,,,, তুমি না পারলে তোমার ঘাড় পারবে,,,আমি সেই ব্যবস্থা করে দিবো,,,,,,

,

শুভ::::: উফফফফফপ অসহ্য,,,,

,

শুভ উঠে রুমে চলে গেলো,,,,তিশাও পিছু পিছু গিয়ে বিছানায় বসে পরে,,,,,ঠিক তখনই তিশার ফোন বেজে ওঠে,,,,,তিশা ফোনটা নিয়ে আননোন নাম্বার দেখে রিসিভ করে না,,,,কিন্তুু বার বার ফোন আসা দেখে তিশা ফোন রিসিভ করে,,,,, 

,

কিন্তুু সাথে সাথে ফোন কেটে যায়,,,,,,

,

তিশা ফোন টা নিয়ে ড্রেসিন টেবিলের সামনে বসে চুল আচড়াতে শুরু করে,,আর শুভ আড়চোখে তিশাকে দেখছে,,,,,

,

তিশা:::: একটা কথা বলবো?

,

শুভ::::: না,,,,

,

তিশা:::: whatever আমি তো বলবোই,,,,

,

শুভ::::: তো অনুমতি নেবার কি আছে?

,

তিশা:::: তোমার ওই ডানাকাটা পেত্নী টা কই গেছে? দেখি না তো ওরে,,,,,

,

শুভ:::::mind your language,,,,, খবরদার ওকে ওই সব বলে ডাকবে না,,,,, ওর নাম ইরা,,,,,,

,

তিশা::::: তো আমি কি করবো?আমি ওই টাই বলবো,,,,,যাই হোক ও কোথায়?


,

শুভ:::: টেনশন করো না,,,আসলে ও এ বাড়িতেই আসবে,,,,,

,

তিশা::::: এসে যেনো দেখে,,,, ঝাড়ু মেরে বিদায় করবো হুহ,,,,,

,

শুভ কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনই তিশার ফোনে আবার ফোন আসে,,,

,

তিশা ফোনে লাউস দিয়ে ড্রেসিন এর ওপর রেখে রিসিভ করে,,,,,,

,

নিশান:::: কেমন আছো জান,,,,,,,,,,,

,

তিশা নিশানের কথা শুনে শুভর দিকে তাকালো শুভ তিশার দিকে কেমন অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে আছে,,,,তিশা বুঝতে পারলো না,,সেটা রাগ নাকি বিরক্ত,,,,

,

নিশান::::: কি হলো জান কথা বলছো না কেনো? তুমি যানো কতো কষ্ট করে তোমার নাম্বারটা পেয়েছি,,, 

,

তিশা:::::আপনি কেনো ফোন দিয়েছেন? আপনি জানেন না আমি বিবাহিত?

,

নিশান::::: জানি,,, কিন্তুু তুমি শুধু আমার,,,, আমি জানি তোমার বর তোমাকে এখন ও তোমাকে আদর করেনি,কারন তোমার শরীরের প্রতিটি আগের মতোই,,,,,

,

তিশা ফট করে ফোনটা কেটে বেলকুনিতে চলে যায়,গিয়ে ধুপ করে বসে ফ্লোরে,,,বসে কান্না করতে থাকে,,,আজ ওর বর এর সামনে কেউ তাকে এমন কথা বললো কিন্তুু তার বর কোনো প্রতিবাদ করলো না,,,,,

,

নিশান তিশার ফুফাতো ভাই,,,ছোট বেলা থেকেই নিশানের নজর ছিলো তিশার ওপর,,,,নিশান এর খারাপ নজর টা তিশা ভালো ভাবেই বুঝতে পারে,,,,,তিশা কেনো সবাই বুঝতে পারতো নিশান এর ব্যাপার টা,,,,পরে তিশার ফুপি তিশার সাথে নিশানের বিয়ের প্রস্তাব দেয় কিন্তুু তিশার ভাই রাজি হয় না,,,,, 

,

পরে নিশান কে কাজের বাহানায় দেশের বাহিরে পাঠিয়ে দিয়ে তিশার সাথে শুভর বিয়েটা হঠাৎ করেই দিয়ে দেয় ওর ভাই,,,,,,কিন্তুু নিশান এটা মেনে নিচ্ছে না,,,,,,,

,

হঠাৎই শুভ গিয়ে তিশার সামনে দাড়ায়,,,,,,

,

শুভ::::: নিশান হয়তো আপনাকে ভালোবাসে,,,,আপনি ওর কাছে ফিরে যান সুখী হবেন,,,,,

,

শুভর কথা শুনে তিশা রেগে ওঠে,,,,

,

তিশা:::: ও আমাকে নয় আমার শরীর ভালোবাসে,,,,আর আপনি কেন পুরুষ যে নিজের বউকে অন্য পুরুষের কাছে যেতে বলছেন,,,,

,

এর থেকে এক বোতল বিষ এনে আমাকে খেতে বললে খেয়ে নিতাম আমি...............




                      দন্যবাদ




[ গল্পটির সব পর্ব ইতিমধ্যেই আমাদের Facebook Page এ upload করা হয়েছে । যারা গল্পটির বাকি পর্ব পড়তে চান তারা আমাদের Facebook Page এ গিয়ে পড়ে আসতে পারেন অথবা ১দিন অপেক্ষা করেন নতুন পর্বের জন্য ]